বাঁশখালীতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ান (এসআরবি) পরিচয়ে প্রেমবাজারে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নেয়ার চারদিন পর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহসান প্রকাশ হাসানকে (৩৫) উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (লেদা ক্যাম্প-২৫) একটি এলাকা থেকে অপহৃত ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক সেনা ও র্যাব (এসআরবি) সদস্য সুমন মুন্সিসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত হাসান পুঁইছড়ি ইউনিয়নের তেলিয়াকাটা গ্রামের হাজী নুরুল কবিরের মেজো ছেলে। তিনি ১২ বছর যাবত দক্ষিণ আফ্রিকার মোজাম্বিকে ব্যবসা করার পর দুই বছর ধরে এলাকায় এসে চারটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—সাবেক সেনা ও র্যাব (এসআরবি) সদস্য সুমন মুন্সি (৩২), মিজানুর রহমান (২৯), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১), মো. ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ থেকে অপহৃত হন ব্যবসায়ী হাসান। কালো পোশাক পরিহিত ও মুখোশধারী চার ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয় দিয়ে তাকে হাতকড়া পরিয়ে ফিল্মি কায়দায় তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হঠাৎ এসআরবির পোশাক (ভুয়া) ও মাথায় টুপি, মুখে মাক্স পরিহিত দুইজন ব্যক্তি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে এহসানকে হাতকড়া পরিয়ে দোকান থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় এদের বাকী দুইজন সদস্য বাইরে অবস্থান করছিলেন। তাকে পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেম বাজারে অটোরিকশায় তুলে দক্ষিণে পেকুয়া উপজেলার টৈইটং হাজী বাজার, আবার চকরিয়ার থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাস নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণকারী চক্রটি বারবার স্থান পরিবর্তন করে। এরপর থেকে বিদেশি নম্বর থেকেই মুক্তিপণ দাবি করে।
মামলার বাদী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, অপহরণের পর দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও দোকানের ম্যানেজার মোজ্জাফফর উদ্দিনকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করলে হাসানকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর হাসানকে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এদিকে, অপহরণের খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে।
এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর ভুক্তভোগী হাসানের ভাই ব্রাজিল প্রবাসী মোহাম্মদ হোসাইন বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় একটি মামলা করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ব্যবসায়ী হাসানকে বাঁশখালী থানায় নিয়ে আসা হয়। এসময় তাঁকে এক নজরে দেখার জন্য প্রেমবাজার ও বাঁশখালী থানায় উৎসুক জনতার ঢল নামে।
বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, ‘অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহসানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় বাঁশখালী থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার তাদের মিডিয়ার মুখোমুখি করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ার সার্কেল) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসআরবি পরিচয়ে তাদের ব্যবহৃত পোশাক, আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্যে ছিল মুক্তিপণ। এখানে রোহিঙ্গাসহ ভিন্ন পেশার লোকজনও জড়িত।
Copyright © 2026 AmaderTeknaf.Com. All rights reserved.
Developed By : Azad Web IT