কক্সবাজারের টেকনাফে লবণবোঝাই একটি ট্রাক থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি মো. হোসেনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।
৩০ অক্টোবর শনিবার ভোররাতে সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্যার বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক মো. হোসেন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্যার বিল ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা মৃত কালু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্যার বিল এলাকার বাসিন্দার মো. হোসেনের নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুকান্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান চালায়। অভিযান শেষে মাদক মামলার পলাতক আসামি মো. হোসেনকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে গত ১৪ মে ২০২৬ সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্যার বিল রাস্তার মাথায় ডাক্তার এনামের ফাঁকা জায়গায় রাখা একটি লবণ বোঝাই ট্রাকে অভিযান চালায় এসআরবি-১৫-এর সদস্যরা। অভিযানকালে ট্রাকে থাকা লবণের বস্তার মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়। পরে আটক চালক ও হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবার চালানটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. হোসেনসহ আরও তিনজনকে পলাতক আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুকান্ত। মামলা দায়েরের পর থেকে মো. হোসেন পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। অবশেষে ৩১ অক্টোবর রাতের অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ইয়াবার এই চালানের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদকের উৎস এবং চালানের গন্তব্য সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আটক মো. হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুকান্ত জানান, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি মো. হোসেনকে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর তাকে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হবে।
সীমান্তবর্তী টেকনাফে মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
Copyright © 2026 AmaderTeknaf.Com. All rights reserved.
Developed By : Azad Web IT