আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত করার সরকারি ঘোষণা থাকলেও, কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ এখনো চূড়ান্ত চলাচলের প্রশাসনিক অনুমতি পায়নি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে ১ নভেম্বর প্রথম দিনেই জাহাজ চলাচল শুরু হওয়া নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার টেকনাফ রুট পুরোপুরি বন্ধ থাকবে এবং শুধুমাত্র কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে অনুমোদিত জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমোদন ছাড়া এককভাবে কোনো জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিতে পারছে না। ফলে জাহাজ মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত অনুমোদন না আসায় এক ধরণের ধোঁয়াশা বিরাজ করছে।
সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন- ১ নভেম্বর থেকে পর্যটন মৌসুম শুরুর সরকারি ইঙ্গিত পেয়ে আমাদের প্রায় ১০টি জাহাজ পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল করছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়াতে। চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদন এখনো আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। মৌসুমের প্রথম দিন থেকেই জাহাজ চালু করতে না পারলে আমরা বড় ধরণের ধাক্কা খাব। আমরা আশা করছি, দ্রুতই এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।”
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম দ্বীপবাসীর আশা ও শঙ্কার কথা তুলে ধরে জানান-
১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপ খুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং আমরা স্বাগত জানাই। তবে শুনেছি ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবেনা, কারণ অনেকের জাহাজের টিকেট বুকিং হয়নি। ফলে ৪/৫ নভেম্বর জাহাজ চলাচল করবে বলে জানা গেছে। দ্বীপের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এখানকার প্রায় দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁয় জোরেশোরে মেরামত ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। তবে জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমতি না মেলায় এখনো একটা বড় শঙ্কা কাজ করছে। এর পাশাপাশি আরেকটি বড় সমস্যা হলো আমাদের সেন্টমার্টিন জেটি। প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন জেটির কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। জাহাজ চালু করার আগে যদি জেটির পন্টুন ও প্ল্যাটফর্মের জরুরি অংশটুকু দ্রুত মেরামত না করা হয়, তবে পর্যটকদের ওঠানামার সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত জাহাজ অনুমোদন ও জেটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।”
এব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনী জাহান জানান- ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। তবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া রয়েছে। আগ্রহী জাহাজগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিয়ম মেনে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে, যাতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষা উভয়ই নিশ্চিত হয়।
এবিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান-সেন্টমার্টিন দ্বীপের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার টেকনাফ ঘাট থেকে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ১ নভেম্বর সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে আমরা একটি পরিপত্র পেয়েছিলাম। কিন্তু ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল করছেনা, আগামী ৪ নভেম্বর সীধান্ত হবে কবে জাহাজ চলাচল করবে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। টেকনাফ রুট ব্যবহার করে কোনো পর্যটক বা নৌযান যাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা না করে, সে বিষয়ে আমাদের কঠোর নজরদারি থাকবে।”