বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টেকনাফে পাহাড়ি সন্ত্রাসী রিদুয়ান বাহিনীর অন্যতম সদস্য আব্দুর রহিম আটক উখিয়ায় মাটি খুঁড়তেই আগুন, এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন নৌপথ, দৈনিক সাড়ে ৩ হাজার পর্যটকের সবুজ সংকেত ফিফা বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই ওয়েলসকে রুখে দিল বাংলাদেশ মাদক মিয়ানমার থেকে কোনো না কোনোভাবে প্রবেশ করে: অর্থের অভাবে কারও পড়াশোনা বন্ধ হবে না, চিকিৎসাসেবাও সবার জন্য নিশ্চিত করা হবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর টেকনাফে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণে অপহৃত ছাত্রদল সভাপতির ভাই উদ্ধার টেকনাফে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৮-১০টি পরিবার টেকনাফে কুরআনের মহা মিলনমেলা: প্রায় ৩ শতাধিক হাফেজের অংশগ্রহণে ইত্তেফাকুল হুফফাজের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপে স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন, থানায় লিখিত অভিযোগ টেকনাফ নাফনদীতে ৫০ হাজার পিস মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার

টেকনাফে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণে অপহৃত ছাত্রদল সভাপতির ভাই উদ্ধার

আমাদের টেকনাফ ডেস্ক: / ২৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহৃত যুবক মো. রফিককে অবশেষে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার পরবর্তী শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভিকটিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় দক্ষিণ শিলখালী এলাকার মমতাজ আহমেদের বড় ছেলে এবং বাহারছড়া ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ কায়সারের বড় ভাই মো. রফিক (৪০)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী পাহাড় হয়ে অপহরণ চক্র গোষ্ঠী তাকে ছেড়ে দেয়। এর আগে গত তিনদিন পূর্বে তার সুপারি বাগান থেকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মো. রফিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপহৃতের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়াও হয়। তারা প্রথমে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও অবস্থা বেগতিক দেখে শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ টাকায় সম্মত হয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।

অপহৃত যুবকের ছোট ভাই ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ কায়সার জানান, স্বজনের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তারা বাধ্য হয়ে অপহরণকারীদের দাবি করা মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করেন। এরপর শুক্রবার দুপুরে দুর্বৃত্তরা পাহাড়ি এলাকা থেকে আমার বড় ভাই মো. রফিককে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসেন। তিনি আরও বলেন- আমাদের ভাইকে যখন অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলাম। অপহরণকারীরা প্রথমে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ভাইয়ের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বাধ্য হই। পরে অনেক অনুনয়-বিনয় করার পর তারা ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণে রাজি হয়। আমরা টাকা পরিশোধ করার পর দুপুরে তারা ভাইকে পাহাড়ি এলাকায় ছেড়ে দেয়। টানা তিনদিন পাহাড়ে বন্দি থাকায় তার শরীর খুব খারাপ হয়ে গেছে, তাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ বলেন- বাহারছড়ার পাহাড়ি এলাকা থেকে মো. রফিক অপহৃত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে উদ্ধারে তৎপর ছিল। আমাদের একটি আভিযানিক দল ওই দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ঝিরিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ দেওয়ার যে দাবিটি করা হচ্ছে, সেটি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। এই অঞ্চলে সক্রিয় অপহরণ চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করতে আমাদের তদন্ত ও বিশেষ তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
Developed By AZAD WEB IT