টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন করার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোজিনা (৩৮) বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড ক্ষেতিরবিল এলাকার রোজিনার সাথে শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়া এলাকার সাদ্দামের প্রায় এক বছর আগে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক বা বিভিন্ন অজুহাতে এবং অন্যান্য বিবাদীদের প্ররোচনায় রোজিনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমনকি তাকে ভরণপোষণ না দিয়ে কথায় কথায় তালাকের হুমকিও দেওয়া হতো। পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিবাদীরা তা অমান্য করে নির্যাতন অব্যাহত রাখে।
ভুক্তভোগী রোজিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বক্তব্যে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই ওরা আমার ওপর নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাত। আমাকে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিত না, আর কথায় কথায় তালাক দেওয়ার ভয় দেখাত। আমি সংসারের সুখের কথা চিন্তা করে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করে আসছিলাম। কিন্তু গত ২১ অক্টোবর বুধবার রাতে ওরা কোনো কারণ ছাড়াই আমার সাথে ঝগড়া বাধায় এবং একপর্যায়ে সাদ্দাম, জসিম, ইমুসহ সবাই মিলে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। এমনকি কাপড় দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলানো অবস্থায় আমার চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসলে আমি প্রাণে রক্ষা পায়। আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং এই অন্যায়ের বিচার চাই।”
পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে ও মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায়, ভুক্তভোগী রোজিনা টেকনাফ মডেল থানায় হাজির হয়ে অভিযুক্ত সাদ্দাম (২৬), জসিম (২৪), ইমু (২৬), ইলিয়াস (২৩) এবং ইয়াহিয়া (২৩)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এই লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার পরিবার এই অমানুষিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।