সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের জঙ্গলে ৫০ দিন জিম্মি করে রাখা হয় এক কিশোরকে। বয়স কম হওয়ায় তাকে পুনরায় টেকনাফে ফেরত এনে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অবশেষে পুলিশি অভিযানে ওই কিশোরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাহছড়া এলাকায় নুরুল ইসলামের বসতবাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম।
উদ্ধার হওয়া ভিকটিমের নাম জুবায়ের (১৭)। তিনি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকার মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে।
আটককৃতরা হল, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগাহছড়া এলাকার মৃত কাসেম আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম (৫০) ও ছিদ্দিক আহমদ (৫৪), একই এলাকার মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৫) এবং উখিয়া উপজেলার বালুখালী ১০ নম্বর ক্যাম্পের (ব্লক-এফ-১৭) আলী আকবরের ছেলে হামিদ উল্লাহ (১৯)।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি দল দরগাহছড়া এলাকায় নুরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অপহৃত জুবায়েরকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।’
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতাররা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ ও মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন সংগ্রহ করে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশে পাচার এবং মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। ভিকটিম জুবায়েরকে প্রায় দুই মাস আগে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের জঙ্গলে প্রায় ৫০ দিন আটকে রাখা হয়। পরে বয়স কম হওয়ায় তাকে পুনরায় বাংলাদেশে এনে ১ নম্বর আসামি নুরুল ইসলামের বাড়িতে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ভিকটিমের পরিবার বিকাশের মাধ্যমে দাবিকৃত ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও টাকা দাবি করে চক্রটি। পরে পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে।