টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে মাদক পাচারের তথ্য দেখে ফেলায় এক বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
২১ অক্টোবর বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে হোয়াইক্যংয়ের মিনাবাজার এলাকায় হাফেজ জয়নাল আবেদিনের বসতঘরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য হাফেজ জয়নাল জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং মিনাবাজার এলাকার ইউসুফ আলীর দুই ছেলে আবদুল মান্নান ও তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদ সালেহ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। গত বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তাঁরা হোয়াইক্যং মিনাবাজার সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে আসছিলেন। এ সময় হাফেজ জয়নালের পরিবারের সদস্য আরাফাত মাদক পাচারের এই দৃশ্যটি সরাসরি দেখে ফেলেন।
মাদক চোরাকারবারিরা বিষয়টি টের পেয়ে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এর জের ধরে মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিহ্নিত মাদক কারবারি মান্নান ও তাঁর ছোট ভাই সালেহসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হাফেজ জয়নালের বসতঘর ঘেরাও করে অতর্কিত হামলা চালায়।
সন্ত্রাসীরা বাড়িঘর ভাঙচুর করার পাশাপাশি এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় ঘরে থাকা জয়নালের ছেলে ও স্থানীয় স্কুলের ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে পরিবারের আরও তিনজন সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন।
গুলির শব্দ ও চিৎকার শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রসহ আহত চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার পর থেকে মিনাবাজার এলাকায় চরম উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা অবিলম্বে এই হামলার মূল হোতাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশ ও টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানায়, অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।