বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টেকনাফে পাহাড়ি সন্ত্রাসী রিদুয়ান বাহিনীর অন্যতম সদস্য আব্দুর রহিম আটক উখিয়ায় মাটি খুঁড়তেই আগুন, এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন নৌপথ, দৈনিক সাড়ে ৩ হাজার পর্যটকের সবুজ সংকেত ফিফা বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই ওয়েলসকে রুখে দিল বাংলাদেশ মাদক মিয়ানমার থেকে কোনো না কোনোভাবে প্রবেশ করে: অর্থের অভাবে কারও পড়াশোনা বন্ধ হবে না, চিকিৎসাসেবাও সবার জন্য নিশ্চিত করা হবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর টেকনাফে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণে অপহৃত ছাত্রদল সভাপতির ভাই উদ্ধার টেকনাফে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৮-১০টি পরিবার টেকনাফে কুরআনের মহা মিলনমেলা: প্রায় ৩ শতাধিক হাফেজের অংশগ্রহণে ইত্তেফাকুল হুফফাজের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপে স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন, থানায় লিখিত অভিযোগ টেকনাফ নাফনদীতে ৫০ হাজার পিস মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার

টেকনাফ-শাপলাপুর সড়কে চরম খানাখন্দ: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ব্যাহত, বাড়ছে অপহরণ ও পাচারের ঝুঁকি

আমাদের টেকনাফ ডেস্ক: / ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ টেকনাফ-শাপলাপুর সড়কের বড় ডেইল স্কুল থেকে বাঘগোনা বাজার পর্যন্ত অংশটি দীর্ঘ ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ও বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের কাজের ধীরগতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কাজ ফেলে আত্মগোপন করায় টেকনাফ পৌরসভার এই প্রবেশদ্বারটি বর্তমানে স্থানীয়দের কাছে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অত্র এলাকার লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতে অমানবিক কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন।
​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৎকালীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা সড়কের নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যান। বর্তমানে লেঙ্গুরবিল ঈদগাহ সংলগ্ন স্টেশনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত ডাম্পার, ভারী যানবাহন ও রাস্তা নির্মাণের যাবতীয় সামগ্রী পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এছাড়া এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে মালামাল সরবরাহ নিয়ে বড় অঙ্কের দেনা রেখে গেছে বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।
​সীমান্তবর্তী এই সড়কটি জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেকনাফ সদর ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ লেঙ্গুরবিল, লম্বরি, মিঠাপানির ছড়া, নোয়াখালী, রাজারছড়া, বড় ডেইল, জাহাজপুরা, শাপলাপুর ও মাথাভাঙা এলাকার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এটি। পাশাপাশি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ২ বিজিবি এবং ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সীমান্ত টহল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান রুট হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা ও কাদা-পানিতে একাকার হয়ে থাকায় সীমান্তে নিয়মিত টহল, আসামি স্থানান্তর ও তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
​নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য জানান, সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী থাকায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। যোগাযোগের এই ব্যবধানের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারি ও মানব পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং বাহারছড়া অঞ্চল কেন্দ্রিক অপহরণ ও পাচার চক্র তাদের তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে।
​জনদুর্ভোগের বিষয়ে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “লেঙ্গুরবিল রোড হয়ে শাপলাপুর পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে বারবার কথা বলা হয়েছে, দেন-দরবারসহ বহু চিঠিপত্র চালাচালি করা হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে আমার ইউনিয়নের জনগণ চরম অবহেলা ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাস্তার এ অবস্থার কারণে এলাকায় অপহরণ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব ভূমিকাও ব্যাহত হচ্ছে।”
​একই প্রসঙ্গে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “টেকনাফ-শাপলাপুর সড়কের এই ভয়াবহ অবস্থার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, প্রকৌশলী এবং ঊর্ধ্বতন মহলকে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ চার বছরেও কোনো সমাধান বা দৃশ্যমান কাজের রূপরেখা তৈরি হয়নি। কর্তৃপক্ষের এমন নীরবতায় পুরো এলাকার মানুষ আজ সীমাহীন কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।”
​উপকূলীয় এই সংযোগ সড়কের পাশে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও বাজার রয়েছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।
​দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় অটোরিকশা চালক রহিমুল্লাহ বলেন, “কয়েকদিন পরপরই গাড়ির পার্টস ভেঙে মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান গুনতে হয়। বারবার গাড়ি মেরামত করতে গিয়ে চালকেরা নিঃস্ব হচ্ছেন। এখন এই সড়কে চালকেরা গাড়ি চালাতে চান না, যার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।”
​দীর্ঘদিনের অবহেলা ও জনদুর্ভোগের প্রতিবাদে সম্প্রতি বড় ডেইল হুসাইনিয়া ফইজুল উলুম মাদ্রাসার সামনে বিশাল মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেন সদর ও বাহারছড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ। কর্মসূচিতে বক্তারা টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর জোর দাবি জানিয়ে বলেন, সড়ক সংস্কারের পেছনের আইনি ও প্রশাসনিক সব জটিলতা দ্রুত সমন্বয় করে অবিলম্বে টেকসই পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করতে হবে।
​বিদ্যমান সমস্যার বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আলাউদ্দিন জানান, সড়কটির আগের ঠিকাদারের টেন্ডার বাতিল করে নতুন কাজের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনাটি অনুমোদন পেলেই দ্রুত নতুন করে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। এছাড়া পৌরসভার লেঙ্গুরবিল রোডের ভাঙা অংশের টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই অংশের সংস্কার কাজও দ্রুত শুরু করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
Developed By AZAD WEB IT