কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী খাল পরিমার্জন, জবরদখল মুক্তকরণ এবং নান্দনিক ল্যান্ডস্কেপিং প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার যৌথ অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতাধীন এই সাব-প্রকল্পের মোট চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ কোটি ৭১ লাখ ৪৭ হাজার ৯ শত টাকা।
প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে টেকনাফ পৌরসভার তদারকি কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলী জসীম উদ্দীন আহমদ বলেন, “এই প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে টেকনাফের কায়ুকখালী খালের চিরচেনা রূপ সম্পূর্ণ বদলে যাবে। শহরের জলাবদ্ধতা দূর করার পাশাপাশি এটি পৌরবাসীর জন্য একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আমরা নির্ধারিত নিয়ম ও সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর। ২০২৭ সালের ২৯ নভেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ৩ দশমিক ৩ শ এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এই খালের খনন কাজ ছাড়াও প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক সৌন্দর্যবর্ধন ও নাগরিক সুবিধার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের মূল কাজের মধ্যে রয়েছে, পৌর এলাকার ৩টি পুকুরের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিমার্জন। টেকনাফ মডেল থানা পুকুর, কাজ চলমায়, দ্বিতীয়টি কাদের হোসেনের পুকুর এবং তৃতীয়টি ইসলামাবাদ কায়ুকখালী খালের পশ্চিম প্রান্তের খোলা জায়গায় একটি দৃষ্টিনন্দন পুকুর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ইসলামাবাদ থেকে নাফ নদী পর্যন্ত একটি আধুনিক পথচারী ওয়াকওয়ে (ফুটপাত) নির্মাণ করা হবে। একই সাথে আরসিসি ব্রিজ, ফুট-ওভার ব্রিজ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং পুরো এলাকায় পরিবেশবান্ধব সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ২৯ নভেম্বরের মধ্যে।
এই মেগা প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে টেকনাফ বড় মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি কেফায়াতুল্লাহ শফিক বলেন, “টেকনাফ পৌরসভার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই কোনো ধরনের দুর্নীতি ছাড়া এর সঠিক বাস্তবায়ন হোক। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে টেকনাফের পুরো দৃশ্যপট বদলে যাবে এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবে। এর পাশাপাশি টেকনাফ পৌরসভায় সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য গণশৌচাগার ও নিরাপদ খাবার পানির স্থায়ী ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি সরকারের কাছে এই দুটি বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
সচেতন নাগরিক রুবায়েদ হাসান বলেন,
প্রকল্পের তদারকি ও সচেতনতা নিয়ে টেকনাফের “টেকনাফ পৌরসভার খালকে দূষণমুক্ত ও অবৈধ জবরদখল মুক্ত করে খালের প্রকৃত পরিমাপ যথাযথভাবে রক্ষা করার জন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলাম। আশা করি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কায়ুকখালী খাল পুরোপুরি দখলমুক্ত হবে। কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা একটি নাগরিক টিম গঠন করে নিয়মিত তদারকি করছি। যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি আমাদের নজরে আসে, তবে সচেতন সমাজকে সাথে নিয়ে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো।”
টেকনাফ প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সাইফি বলেন, “এটি টেকনাফ পৌরসভাকে বদলে দেওয়ার জন্য একটি বিরাট সুযোগ। প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে টেকনাফের কায়ুকখালী খাল এলাকা একটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পটে পরিণত হবে এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা মুগ্ধ হবেন। তাছাড়া বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত টেকনাফের জিরো পয়েন্টে আসা পর্যটকরা যাতে তাদের স্মৃতির অ্যালবামে নান্দনিক কিছু ধরে রাখতে পারেন, সেজন্য গোলচত্বর, ঝর্ণা চত্বর ও শাপলা চত্বরকে মিনার বা বিশেষ স্থাপত্যশৈলী দিয়ে নান্দনিক চত্বরে রূপান্তর করা অত্যন্ত প্রয়োজন।”
পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি সীমান্ত শহর টেকনাফ একটি পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।###