টেকনাফ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে দিনব্যাপী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৪ অক্টোবর কয়েকটি ইউনিয়নের গণশুনানি শেষ হওয়ার পর টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গণশুনানি শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা হল রুমে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী। পরিচালনা ও বাস্তবায়নে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলাম, তহশিলদার আবুল কাশেমসহ অন্যান্য অফিসারবৃন্দ।
গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, জালাল আহমদ মেম্বার, জহির উদ্দিন আহমদ মেম্বার, লায়লা মেম্বার, হেলাল উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, নুর কামাল, মোঃ আয়ুব, হাফেজ জামাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, রফিক উল্লাহ, হাফিজুর রহমান, জামাল হোসেন, আব্দুল মজিদ, মোঃ ইউনুস অভি সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সাইফি।
সভায় সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সাইফি বলেন, আজকের টেকনাফ পৌরসভা মূলত সাবেক ৩নং সদর ইউনিয়নকে ভাগ করেই গঠিত। ২০১৬ সালে পৌরসভার উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে এলাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং জরিপও সম্পন্ন হয়, যা এখনো গেজেট আকারে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে।
তিনি বলেন, পৌরসভায় অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের কারণে যেমন কয়েক বছরের মধ্যে কয়েকবার ড্রেন নির্মাণ করতে হয়, তেমনি সদর ইউনিয়ন বিভক্তিও যদি অপরিকল্পিতভাবে করা হয় তাহলে একই কাজ বারবার করতে হবে, বারবার জনভোগান্তি সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, বাহারছড়া ইউনিয়ন থেকেও কিছু এলাকা সদর ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হতে পারে, আবার সাবরাং ইউনিয়ন থেকেও কিছু এলাকা সদর ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে সদর ইউনিয়ন থেকেও কয়েকটি ওয়ার্ড পৌরসভায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব সংযুক্তি পরিমাপ ও সার্ভে না করে যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদকে বিভক্ত করে ফেলা হয়, তাহলে তা সরকারের জন্য চরম ক্ষতির কারণ হবে, জনসাধারণেরও ক্ষতি হবে। সরকারের রাজস্ব এবং তহবিলের শত কোটি টাকা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, “যদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজটি করা হয়, তাহলে কাজটি একবারেই হবে, সুন্দর হবে, জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে এবং সরকারের ফান্ড সেভ হবে।”
তার বক্তব্য শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলাম তাকে তার বক্তব্যটি লিখিতভাবে উপস্থাপন করে অফিসে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে সাবেক পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসমাইলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে, মৌখিকভাবে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় বারবার অবগত করেছি। এরপরও প্রশাসন বিষয়গুলো আমলে না নিয়ে এবং পৌরসভার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় বিবেচনায় না রেখে সদর ইউনিয়ন বিভক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দেখে আমরা বিস্মিত হচ্ছি। এভাবে এগিয়ে গেলে পরবর্তীতে যেকোনো সময় পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধি হলে সরকারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৬ সালের দিকে পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের সীমানা প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেটি সার্ভে সম্পন্ন হয়ে প্রতিবেদন এখন মন্ত্রণালয়ে ঝুলে আছে এবং যেকোনো মুহূর্তে অনুমোদন হয়ে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই যারা বর্তমানে সদর ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে কাজ করছেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়গুলো আমলে নেওয়া এবং বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি।”
এদিকে গণশুনানি শেষে উপস্থিত জনতা হলরুমের বাইরে এসে একে অপরের সাথে আলোচনায় বলেন, পৌরসভার বিষয়টি সমন্বয় না করে সদর ইউনিয়ন পরিষদের বিভক্তি একটি আত্মঘাতীমূলক।