কক্সবাজারের টেকনাফে বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহরের বকেয়া অর্থ আদায় ও খোরপোষের দাবিতে জেলা আইনি সহায়তা কেন্দ্রের (লিগ্যাল এইড) শরণাপন্ন হয়েছেন এক ভুক্তভোগী নারী। একই সাথে অভিযুক্ত স্বামী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম মুসনা আক্তার (২২)। তিনি টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী গ্রামের মৃত আহমদুল হকের কন্যা। দেনমোহর ফাঁকি ও নির্যাতনের পটভূমি
প্রাপ্ত তথ্য ও সংগৃহীত নিকাহনামার নথি সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মনখালী গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ ফয়েজের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মুসনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মোট দেনমোহর ধার্য করা হয়েছিল ৮ লাখ টাকা (যার মধ্যে তাৎক্ষণিক ৪ লাখ এবং বিলম্বিত ৪ লাখ টাকা)। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ তো করা হয়ইনি, বরং যৌতুক ও বিভিন্ন পারিবারিক অজুহাতে মুসনার ওপর প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী ও তাঁর পরিবার।
আইনি পদক্ষেপ ও লিগ্যাল এইডে আবেদন
নির্যাতন ও অধিকারবঞ্চনার শিকার হয়ে বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর আদায় এবং বকেয়া খোরপোষ পাওয়ার দাবিতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন ভুক্তভোগী। গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তিনি আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে ‘জেলা আইনগত সহায়তা অফিস, কক্সবাজার’-এ একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেন (নিবন্ধন নম্বর: APP-COX-20261015-0009124)। আবেদনের মাধ্যমে তিনি দ্রুত ও সুষ্ঠু আইনি সমাধান দাবি করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে কক্সবাজার লিগ্যাল এইড অফিসে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সুমাইয়া আক্তারের সাথে নোটারী চুক্তির প্রমান
অনুসন্ধানে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ফয়েজের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফয়েজ এলাকার মেয়েদের প্রেমের জালে ফেলে অর্থ আদায় করতেন এবং টাকা না দিলে আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতেন।
অতি সম্প্রতি অনুসন্ধানে কক্সবাজার নোটারী পাবলিকের একটি অফিসিয়াল নথি পাওয়া গেছে (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৪৫৫, তারিখ: ২৪/০৯/২০২৬ খ্রি.)। উক্ত নথিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত মোহাম্মদ ফয়েজ (৩৩), পিতা: শামসুল আলম, পেশা: প্রবাসী— উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকার সুমাইয়া আক্তার (১৮), পিতা: আজিজুল হক (কাজী নজরুল ইসলাম/আজিজুল ইসলাম) ও মাতা: আনোয়ারা বেগম-এর সঙ্গে আলাদাভাবে “দাম্পত্য জীবন যাপনের চুক্তিপত্র” সম্পাদন করেছেন। অ্যাডভোকেট নিলুফা ইয়াসমিনের কার্যালয় থেকে এই নথির এফিডেভিট ও নোটারী সম্পন্ন করা হয়।
ভুক্তভোগী মুসনা আক্তার স্বামীর এসব অনৈতিক পরকীয়া ও অন্যায্য কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগে বলা হয়— স্বামী ফয়েজ, তাঁর বাবা শামসুল আলম এবং বোন রিনাসহ পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মুসনাকে গুরুতর জখম করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কক্সবাজার আদালতে মামলা দায়ের করেন।
সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা অসহায় পরিবার
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত ফয়েজ একজন প্রতারক প্রকৃতির লোক। পিতৃহীন অসহায় এই নারী ও তাঁর পরিবারের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘ দুই-আড়াই বছর ধরে নির্যাতন চালিয়েছেন। এমনকি জমি কেনার কথা বলে মুসনার প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার বিক্রি করে সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ফয়েজ।
অভিযুক্ত ফয়েজ ও তাঁর পরিবারের এহেন অবিচারের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনি প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বকেয়া পাওনা আদায়ের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও প্রতিবেদকের প্রতিবাদ
সংবাদ প্রকাশের পটভূমি ও পরবর্তী অপপ্রচার প্রসঙ্গে প্রতিবেদনের সাংবাদিক মিসবাহ উল্লাহ জানান, “সংবাদ প্রকাশের পূর্বে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমি অভিযুক্ত বিবাদী মোহাম্মদ ফয়েজের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেছিলাম। তবে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ফলে সংগৃহীত তথ্য ও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সত্যের ভিত্তিতেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সত্য প্রকাশ করা সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও ‘লিক করেনও টিভি’র সাথে যুক্ত মোহাম্মদ রানা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন।”