
জিয়াবুল হক:
দিন দিন বেড়েই চলছে শীতের তীব্রতা। আর তার সঙ্গে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের মিয়ানমার ঘেঁষা নাফনদীর চরের আশেপাশে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখির দল। নানা জাতের অতিথি পাখির কলকাকলিতে ইতোমধ্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন উপকূল ও শাহপরীর দ্বীপ।
এসব অতিথি পাখি দেখতে দাঁড়িয়ে ভিড় করছে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন। পাখি কখনো নীল-সাদা, কালো, আকাশে পাখা মেলে উড়ে মানুষকে আনন্দ দিচ্ছে, আবার কখনো শাহপরীর দ্বীপ জেটির ঘাটের উত্তর-দক্ষিণ পাশে থাকা কেওড়া বাগান কিংবা নাফনদীর চরে জলকেলি করছে। পাখি গুলো দুই পাখ উড়াল দিয়ে ছোটাছুটি করছে। অতিথি পাখির এমন খুনসঁটি আর ছোটাছুটি সবার মনকে করে তুলছে প্রফুল্ল।
দেশী-বিদেশী পর্যটক ও স্থানীয়দের আনন্দ বাঁড়িয়ে দিচ্ছে এই সব অতিথি পাখিগুলো। বিশেষ করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর করিডোর জেটি ঘাটের উত্তর-দক্ষিণ পাশে থাকা কেওড়া বাগান ও নাফনদীর ঘিরে নানা জাতের অতিথি পাখির উপস্থিতি বেশ লক্ষ করা যাচ্ছে। এসব এলাকায় উপকূল জুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে দলে দলে বাসা বাঁধছে নানা দেশের অতিথি পাখি।
১৯ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে ঘুরতে আসা চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকার মো. কবির, আবদুর রহমান, নুরুল ইসলামসহ একাধিক পর্যটক জানান, বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির বেশির ভাগই এখন বাসা বেঁধেছে জেটি ঘাট এলাকার উপকূলীয় প্যারাবন এবং নাফনদীর চরে গাছগাছালিতে। শীতের অনুভূতিতে এই ট্রানজিট ঘাটকে ছিন ছিন শব্দে বিভোর করে তুলেছে অতিথি পাখির দল। এমন দৃশ্য দেখে আমাদের শত শত দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আনন্দিত।
টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এই নাফনদীর বুকেই টেকনাফের শেষ সীমান্তে শাহপরীর দ্বীপে ৫৫০ মিটার লম্বা জেটি নির্মিত হয়েছিল ২০০৪ সালে। ২ কোটি ১০ লাখ টাকায় এটি নির্মাণের পর থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন। এ জেটিতে বিশ্রামাগার, শৌচাগার ও ৫টি সিঁড়ি রয়েছে।
এছাড়াও জেটি ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে জেটিটির গাড়ি পার্কিং স্পট রাখা হয়েছে।