সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলকে অপরাধমুক্ত করতে কক্সবাজার জেলা পুলিশের নেওয়া বিশেষ ‘স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন’ উদ্যোগে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। পুলিশের টলারেন্স নীতি ও সুপথে ফেরার মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন টেকনাফ অঞ্চলের একজন শীর্ষ ডাকাত-অপহরণকারী এবং একজন চিহ্নিত মানব পাচারকারী।
গত ৮ সেপ্টেম্বর এপিবিএন, জেলা পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলাকালে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। তারা অতীতে অপরাধের পথ পরিহার করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
৯ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরের দিকে টেকনাফ মডেল থানায় আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অহিদুর রহমান।
আত্মসমর্পণকারী নূর হোসেন প্রকাশ নূর হাছান (২৭)। তিনি টেকনাফের একজন চিহ্নিত ডাকাত ও পাহাড়ি অঞ্চলের শীর্ষ অপহরণকারী। সেই টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড পুলিশ ক্যাম্পে এসে আত্মসমর্পণ করেন। নূর হোসেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের (ব্লক-সি, ঘর নং-৯০৮/১) আব্দুল করিমের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ৭ টি গুরুতর মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন এবং ২টি স্থায়ী গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। মো. হোছন ড্রাইভার (৪০)।তিনি সাগরপথে পাচারকারী সিন্ডিকেটের অন্যতম শীর্ষ সদস্য। গত ৮ সেপ্টেম্বর টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এসে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। হোছন ড্রাইভার টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮নং ওর্য়াডের কচ্ছপিয়া এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে মানব পাচারসহ ৭ টি মামলা আদালতে বিচারাধীন এবং ২টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আত্মসমর্পণকারী এই আসামিকে ইতিমধ্যেই বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ব্রিফিংকালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অহিদুর রহমান বলেন- আমরা টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত অঞ্চলের পাহাড় কিংবা সাগরে কোনো ধরনের অপরাধী চক্রের উপস্থিতি বরদাশত করব না। যারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে মূল স্রোতে ফিরতে ইচ্ছুক, জেলা পুলিশ তাদের আইনি সহায়তাসহ পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। নূর হোসেন ও হোছন ড্রাইভারের এই আত্মসমর্পণ বাকি অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা। যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে ভালো পথে ফিরে আসতে চাইবেন, তাদের বা তাদের পরিবারকে কোনো ধরনের অহেতুক হয়রানি করা হবে না।”তিনি আরও বলেন- তবে যারা এখনো আত্মগোপনে থেকে পাহাড়ে বা সাগরে সিন্ডিকেট সচল রেখেছে, তাদের জন্য আমাদের অপরাধ বিরোধী ‘শূন্য সহনশীলতা’ অভিযান আরও তীব্র হবে। যৌথ বাহিনীর সমন্বিত ও কঠোর মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণেই এই শীর্ষ অপরাধীরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে। বাকি অপরাধীদেরও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, অতি দ্রুত নিকটস্থ থানা বা যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করুন, অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতম অ্যাকশনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকুন।”স্বস্তির হাওয়া স্থানীয় জনমনে পুলিশের এই দূরদর্শী ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
ভুক্তভোগী পরিবারের স্বস্তি:
পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের হাতে অতীতে জিম্মি হওয়া এক ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা চাই এই অপরাধের স্থায়ী অবসান হোক। এই আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া দেখে যেন পাহাড়ের অন্য অপরাধীরাও অস্ত্র জমা দিয়ে ভালো হয়ে যায়। তাহলে আর কোনো পরিবারকে বুক খালি করে কাঁদতে হবে না।