কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজম পাড়া এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে এক অন্তঃসত্ত্বা (গর্ভবতী) নারীকে লাথি, কিল-ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই নারীকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে টেকনাফ মডেল থানার এসআই দুলালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল একটি ধর্ষণ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ইউনুসকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে হাজম পাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আসামিকে আটক করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাধা দেন। এ সময় পুলিশের এক সদস্য তাকে লাথি ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, লাথির আঘাতে ওই নারীর পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত নারীর মামা-শ্বশুর রশিদ আহমেদ বলেন, “তিনি যে সন্তানসম্ভবা, সেটি বারবার বলার পরও অভিযানে আসা এসআই দুলাল কোনো মানবিকতা দেখাননি। পুরুষ সদস্যরা ঘরে ঢুকে জোরজবরদস্তি করেন এবং তাকে লাথি মেরে নির্মমভাবে আঘাত করেন। পেটে গুরুতর আঘাত লাগায় গর্ভের সন্তান নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ঘটনার বিষয়ে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রশিদ বলেন, “হাজম পাড়া এলাকায় আসামি ধরতে গিয়ে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত টেকনাফ মডেল থানার এসআই দুলাল। তিনি বলেন, “না বুঝে, না জেনে কথা বলবেন না। ধর্ষণ মামলার আসামি আটক করতে গেলে আসামির লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেছে।”
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “টেকনাফ সদর ইউনিয়নের আজম পাড়া এলাকায় ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশকে বিতর্কিত করতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশকে দেখে আসামির পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কোনো গর্ভবতী নারীকে লাথি মারার অভিযোগ সত্য নয়; এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”