আমাদের টেকনাফ ডেস্ক:
কক্সবাজারের টেকনাফে সংকটপীড়িত জনগোষ্ঠীর বহুমাত্রিক পুনরুদ্ধার ও প্রান্তিক শিশুদের অধিকার রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় টেকনাফ উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে প্রজেক্ট কোর্ডিনেটর মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ নিজামের পরিচালনায় এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল অক্টোবর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন, হ্নীলা, বাহারছড়া ও সাবরাংয়ে পরিচালিত শিশু সুরক্ষা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ফলাফল সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সামনে উপস্থাপন ও আলোচনা করা। এ পর্যবেক্ষণের আওতায় ৫৪৪ জন কমিউনিটি সদস্যের সঙ্গে Key Informant Interview (KII) এবং ৩৬০ জন শিশুর সঙ্গে Focus Group Discussion (FGD) পরিচালনা করা হয়।
‘মাল্টি-সেক্টর রিকভারি অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট সাপোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় মাঠ পর্যায় থেকে সংগৃহীত ‘শিশু সুরক্ষা পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন’-এর বিভিন্ন তথ্য ও ফলাফল এই সংলাপে উপস্থাপন করা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি’ (IRC) এবং মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ‘ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেটস-এর সহযোগিতায় স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘পালস বাংলাদেশ’ (Pulse BD) এই অনুষ্ঠানের বাস্তবায়ন করে। উক্ত সংলাপে মাঠ পর্যায়ের শিশু সুরক্ষার বর্তমান চিত্র, নানাবিধ চ্যালেঞ্জ এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতকরণের ওপর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরী বলেন-“সংকটপীড়িত এই অঞ্চলের শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মাঠ পর্যায়ের এই মনিটরিং প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে এবং নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত সহায়তাকারী ভূমিকা পালন করবে। শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছানো, মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত করা এবং সব ধরণের সহিংসতা ও শিশুশ্রম থেকে তাদের দূরে রাখতে উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর এই যৌথ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন-“প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে সমাজসেবা অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই মনিটরিং প্রতিবেদনে শিশুদের সুরক্ষাজনিত যেসকল ঝুঁকির বিষয় উঠে এসেছে, তা নিরসনে আমরা আমাদের চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও শিশু কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করব। বিশেষ করে অনাথ, সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশুদের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘পালস বাংলাদেশ’ সহ অন্য অংশীজনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়।
উপস্থিত ছিলেন- টেকনাফ মডেল থানার এসআই কায়রুল আলম, প্রজেক্ট অফিসার মোঃ রেজাউল করিম- শিশু সুরক্ষা সেক্টর পালস বাংলাদেশ সোসাইটি, টেকনাফ।
উক্ত সংলাপে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ছাত্র-ছাত্রী এবং উন্নয়ন সংস্থার মাঠ পর্যায়ের কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা শিশুদের উজ্জ্বল ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।