কক্সবাজারের টেকনাফে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই অংশ হিসেবে ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সশরীরে পরিদর্শন ও নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয় করেছেন রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার-উল-আলম এবং টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল আশিকুর রহমান ভূঁইয়া।
বিজিবি সূত্র জানায়, ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী পরিদর্শনের সময় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ মণ্ডপসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, আশপাশের পরিবেশ এবং দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা প্রতিটি মণ্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সাথে বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও কৌশল নির্ধারণ করা হয়। একই সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তাসংক্রান্ত মতামত ও প্রয়োজনীয়তার কথা শোনেন এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও মতবিনিময় শেষে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে: কর্ণেল আশিকুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। এই উৎসব যাতে অত্যন্ত আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সুদৃঢ় সমন্বয় বজায় রেখেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা গুজব ছড়ানো রোধে আমাদের টহল দল ও বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিজিবি সদস্যরা মাঠে নিয়োজিত আছেন। আমরা আশাবাদী, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রতিটি মণ্ডপে ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহ কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।”
পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ বিজিবির এই সময়োচিত পদক্ষেপ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সীমান্ত এলাকাসহ প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় এই কঠোর নজরদারি ও বিশেষ সতর্কাবস্থা অব্যাহত থাকবে।