কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিংঞো দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মকে প্রশ্রয় দিয়ে পুরো স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
জানা যায়, ডা. মং টিংঞো ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ ক্রমাগতভাবে সামনে আসছে।
সরকারি বিধি অনুযায়ী সহকারী কনসালটেন্টদের নিয়মিত ওয়ার্ডে উপস্থিত থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদকর্মী ও সমাজসেবক ইমরান হোসেন নবী বলেন, “আমি নিজে প্রায় ৫৫ ঘণ্টা রোগী নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করেছি। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কোনো কনসালটেন্ট চিকিৎসককে ওয়ার্ডে এসে রোগী দেখতে দেখিনি। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন—‘নিচে গেছেন’, ‘উপরে গেছেন’; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা কোথায় আছেন সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।”
অভিযোগ রয়েছে, অনেক চিকিৎসক সকালে হাসপাতালে এসে শুধুমাত্র ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে হাজিরা নিশ্চিত করে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন এবং বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে চলে যান। অথচ এসব অনিয়মের বিষয়টি তত্ত্বাবধায়ক জানার পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বরং কেউ এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিবাদকারীদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় এবং উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই থানায় জিডি করার মতো ঘটনাও ঘটছে।
এভাবে স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্বে চরম অবহেলার মধ্য দিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল পরিচালিত হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
জেলাবাসীর পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিংঞোকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক ইমরান হোসেন নবী কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনি এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে ন্যায্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করুন।”