আগামীকাল ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার কক্সবাজারের টেকনাফ সফরে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ উপলক্ষে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। সফরের মূল কর্মসূচি হিসেবে কৃষকদের মাঝে “কৃষক কার্ড” বিতরণ করবেন তিনি।
তবে এই সফরকে ঘিরে উখিয়া-টেকনাফবাসীর প্রত্যাশা শুধু কৃষক কার্ড বিতরণেই সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এ অঞ্চলের মানুষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরতে চান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীমান্তবর্তী এই এলাকায় অপহরণ, মালয়েশিয়া মানব পাচার, ইয়াবা পাচার একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলেও, পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাই মাদক নির্মূলে আরও কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও জোর দাবি উঠেছে। চুরি, ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ জনগণ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাও স্থানীয়দের অন্যতম দাবি। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান এলাকাবাসী।
অন্যদিকে, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পর্যটন খাতের বিকাশ, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার দাবিও তুলেছেন স্থানীয়রা।
সবমিলিয়ে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে টেকনাফ ও উখিয়াবাসীর মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আশা-প্রত্যাশা। এখন দেখার বিষয়, তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কী ধরনের আশ্বাস বা পদক্ষেপ ঘোষণা করেন।
সুত্রে জানা যায়, ন্যায্যমুল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা ও সহজ শর্তে কৃষি ঋণসহ ১০ ধরণের সুবিধা পাবেন কার্ডধারী কৃষকেরা।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী অতি অল্প সময়েই কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে জেনে কৃষকরা খুবই খুশী এবং আনন্দিত। তার মাঝেই টেকনাফ উপজেলার ৩টি ওয়ার্ডকে প্রি পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করায় সীমান্তের কৃষকরা সরকার প্রধান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির জানান, কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া ব্লকের ৩টি ওয়ার্ডে আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতি সম্পন্ন জরীপ প্রক্রিয়ার আলোকে ডুর টু ডুর সার্ভের মাধ্যমে ১৬৯৮জন কৃষককে বাছাই করা হয়েছে। এই সকল কৃষকদের মাঝে আনুষ্টানিকভাবে কৃষি কার্ড বিতরণ করবেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।