রাষ্ট্রপতির পুনর্বিবেচনার আওতায় আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়ার প্রায় সাড়ে ১৬ বছর আগের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করেছে সরকার। এর ফলে তিনি সরকারি চাকরির সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
৯ মার্চ সোমবার জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস ১২ ব্যাচের এ কর্মকর্তার বরখাস্তকালীন সময় চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। বরখাস্ত বাতিলের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
কোহিনূর মিয়া সর্বশেষ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি। পরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে ২০০৪ সালের পৌর নির্বাচনে সংঘর্ষে দুইজন নিহতের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই পৌরসভা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া আদালতে পুনরায় একটি মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর ময়মনসিংহের আদালত ওই মামলায় কোহিনূর মিয়াকে খালাস দেন। একই অভিযোগে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় দেওয়া বরখাস্তের দণ্ড পুনর্বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি তা বাতিল করেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোহিনূর মিয়া চাকরিতে পুনর্বহালের খবরে পুলিশের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে পরবর্তী ডিএমপি কমিশনার হিসেবে তিনিই নিয়োগ পাচ্ছেন। কারণ, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোহিনূর মিয়া তৎকালীন সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আর একারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাকে কোণঠাসা করে। একপর্যায়ে সরকারের চাপে জীবনের নিরাপত্তায় তিনি আত্মগোপনে চলে যান।