আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সরকারি ২২টি হাটবাজারে ইতোমধ্যে গরু ছাগল মহিষ বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ঈদ ঘনিয়ে আসার মুহুর্তে কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশকিছু অস্থায়ী পশুর হাট বসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অতীতের মতো এবছরও ক্রেতাদের কাছে দেশীয় জাতের গরুর চাহিদা রয়েছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, কোরবানির চাহিদা মেটাতে এবছরও উপজেলার ১ হাজার ৭৫৫ খামার এবং গৃহস্থালি মিলিয়ে প্রায় ৪৪ হাজার দেশীয় গরু কোরবানির পশুর হাটে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় খামারিরা জানিয়েছে, কয়েকবছর ধরে কতিপয় চক্র লোভের বশবর্তী হয়ে চোরাপথে কোরবানি বাজারে বার্মাইয়া গরু নিয়ে আসছে। এতে দেশীয় গরু লালন পালনে নিয়োজিত খামারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একইভাবে এবছরও যদি মায়ানমার থেকে গরু আনার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে কোরবানির পশুর দাম পড়ে যাবে, এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে খামারি।
জানা গেছে, কোরবানি ঈদ ছাড়াও বছরের বেশিরভাগ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা যোগসাজশে চোরাকারবারি চক্র চোরাই পথে আনা গরু-মহিষ স্থানীয় হাটে বিক্রি করে আসছে। দীর্ঘ পথ ফাঁড়ি দিয়ে আনা এসব গরু মহিষের শরীরে ভ্যাকসিন দেয়ার কারণে মাংস গুলো ঠিকমতো সিদ্ধ হয় না। আবার ভ্যাকসিন দেওয়া বার্মাইয়া গরুর মাংস খেয়ে লোকজন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
অবশ্য এখন মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাজুড়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ও সংঘাতের কারণে পশু চোরাকারবারি বন্ধ আছে। তারপরও চকরিয়া উপজেলার স্থানীয় খামারিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় গরুর ১ হাজার ১০০টি, মহিষ ১২০, ছাগল ৪৫০ ও ভেড়ার ৮৫টি খামার রয়েছে। এসব খামারে ৪৩ হাজার ৫৭৬টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৮১০টি গরু, ১ হাজার ৭৪৫টি মহিষ এবং ১৬ হাজার ১১টি ছাগল ও ভেড়া।
এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪২ হাজার। স্থানীয়ভাবে পালন করা পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব।
চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন বলেন, উপজেলায় গরু-মহিষের বিশাল চারণভূমি রয়েছে। এখানে প্রাকৃতিকভাবে পশু হৃষ্টপুষ্টকরণ হয়। তাই দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে চকরিয়ার গরু মহিষের আলাদা কদর রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের মাঠপর্যায়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এবছর ৪৩ হাজার ৫৭৬টি পশু চকরিয়ার কোরবানি বাজারে তোলার জন্য খামারী ও গৃহস্থালি লোকজন মুখিয়ে আছেন। ##