শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চকরিয়া ও মাতামুহুরীর ৮০ হতদরিদ্র পরিবারের নারী-পুরুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের চেক বিতরণ টেকনাফে ১৩০ দুস্থ জেলে ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ: বিএনপি নেতার আবেদনে মাতামুহুরী নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে ২৪ শত মিটার টেকসই সিসিব্লক বসাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ উখিয়ায় সরকারি বরাদ্দের ৮২ বস্তা চাল জব্দ, গুদাম সিলগালা উখিয়ায় ২০ হাজার ইয়াবা গায়েব করে দুই রোহিঙ্গাকে ছেড়ে দিল পুলিশ ৯ বছরেও বদলায়নি” এবারের ঈদেও নিজভূমিতে ফেরা হলো না রোহিঙ্গাদের প্যারিস গেলেন ড. ইউনূস, বিমানবন্দরে ভিভিআইপি প্রটোকল টেকনাফে টেলিভিশন জার্নালিস্ট সোসাইটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত: ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হা’ম’লা: কোরবানির ঈদে দেশীয় গরুর চাহিদা বেশি, চকরিয়ায় হাটে তোলা হচ্ছে ৪৪ হাজার পশু

৯ বছরেও বদলায়নি” এবারের ঈদেও নিজভূমিতে ফেরা হলো না রোহিঙ্গাদের

আমাদের টেকনাফ ডেস্ক: / ১৩ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঈদে আনন্দের বদলে দীর্ঘশ্বাস আর অনিশ্চয়তাই যেন সঙ্গী হয়েছে।

উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে ২৮ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও, নয় বছর ধরে নিজভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন লাখো রোহিঙ্গার জীবনে উৎসবের সেই চিরচেনা আবহ আর নেই।
বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার অনেকেই এবারও ঈদ কাটিয়েছেন অভাব, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও একজন রোহিঙ্গাকেও স্থায়ীভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। বরং নতুন করে বাড়ছে অনুপ্রবেশের চাপ।
গত বছরের রমজানে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শিবিরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ‘এই ঈদে না হোক, আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ করতে পারবে।’ জাতিসংঘ মহাসচিবকে পাশে রেখে দেওয়া সেই আশ্বাসে আশাবাদী হয়ে উঠেছিল শিবিরের বাসিন্দারা। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাবাসনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
উল্টো নতুন করে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ঈদ এলেও শরণার্থী শিবিরগুলোতে নেই উৎসবের আমেজ। উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খাবারের সংকট, নিরাপদ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

এবিষয়ে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা শিবিরের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘কোরবানির ঈদ হলেও আমাদের ক্যাম্পে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মাংস সহায়তা পাওয়া যায়নি। টানা তিন বছর ধরে এ ধরনের সহায়তা বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া ঈদ এলেও আমাদের মাঝে তেমন আনন্দ কাজ করে না। কারণ নিজ দেশে ঈদ উদযাপন আর ভিনদেশে শরণার্থী হয়ে ঈদ পালন করার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। মিয়ানমারে আমাদের বাপ-দাদার কবর রয়েছে। যুগের পর যুগ সেখানে বসবাস করেছি। ঈদের নামাজ শেষে পরিবারের সবাই মিলে কবর জিয়ারত করতাম। এখন আর সেই সুযোগ নেই। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?’

উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘গত বছর বলা হয়েছিল ২০২৬ সালের ঈদ আমরা নিজ দেশ মিয়ানমারে উদযাপন করবো। কিন্তু এবারও কাঁটাতারের ভেতরেই বন্দী হয়ে ঈদ কাটাতে হচ্ছে।’

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আশ্রয়শিবিরে বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত অনেক এনজিও তহবিল সংকটের কারণে এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা কমে গেছে। গত বছর দেড় কেজি করে মাংস বিতরণ করা হয়েছিল। এবার উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে থাকা দুই লাখ রোহিঙ্গা পরিবারে এক কেজি করে মাংস বিতরণ করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় লাখো রোহিঙ্গা। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
Developed By AZAD WEB IT