বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মানব পাচার প্রতিরোধে অঙ্গীকার টেকনাফে সাংবাদিকদের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ রচনা লিখে পুরস্কার পেলেন কক্সবাজারের ৬ শিক্ষার্থী চকরিয়ায় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের উদ্যোগে বন্যার্ত ৮০০ নারী-পুরুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ: টেকনাফে ৮০ হাজার ইয়াবা সহ ছদ্মবেশী মাদক কারবারী ইমন আটক তিন প্রতিষ্ঠানের ‘জ্যাম’ ও ‘কেক’ বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ ফটিকছড়িতে হরতাল পালিত হয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন প্রয়াত বিএনপি নেতার ছেলেকে সরানোর সুপারিশ; আওয়ামী লীগ নেতা হেলালকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর ডিও লেটার ভাইরাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা, আটক-৩ কুতুবদিয়ায় ট্রলারডুবিতে ৪ জেলের মৃত্যু, নিখোঁজ এক জেলে ট্রলারসহ ৫ রোহিঙ্গাকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

উখিয়ায় ২০ হাজার ইয়াবা গায়েব করে দুই রোহিঙ্গাকে ছেড়ে দিল পুলিশ

আমাদের টেকনাফ ডেস্ক: / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ন

ঈদুল আজহার আগের দিন ২৭ মে বুধবার, ভোর আনুমানিক ৬ টা। উখিয়ার রত্মাপালং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় একটি গ্রামীণ সড়কের উপরে অবস্থান করছিল পুলিশের একটি দল।

সেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন উখিয়া থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চম্পক বড়ুয়া, যার কাছে তথ্য ছিল পার্শ্ববর্তী পার্বত্য ইউনিয়ন ঘুমধুমের ফাত্রাঝিরি সীমান্ত এলাকা থেকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা যোগে ইয়াবার চালান সহ দুই রোহিঙ্গা মাদক কারবারি গয়ালমারা অতিক্রম করবে।

অটোরিকশাটি গয়ালমারায় পৌঁছানোর সাথে সাথে চম্পক ও তার সাথে থাকা ৩/৪ জন পুলিশ সদস্য মিলে আটক করেন এবং সেসময় তল্লাশিতে পাওয়া যায় দুই প্যাকেটে থাকা ২০ হাজার ইয়াবা।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে গায়েবি এই অভিযানের তথ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবী, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো রেখে দিয়ে বহনকারী ২ রোহিঙ্গা যুবককে ছেড়ে দেন এএসআই চম্পক।

ফাত্রাঝিরি এলাকার এক নারী চম্পককে ইয়াবার চালানটির বিষয়ে জানিয়েছিলেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে৷

গয়ালমারার স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ‘ নামাজ পড়ে এলাকার রাস্তায় হাটছিলাম, এসময় দেখি টমটমসহ দুইজনকে পুলিশের লোকজন ধরে রেখেছে। তাদের কাছে ইয়াবা ছিল বলে শুনেছি।’

অভিযানে চম্পকের সাথে থাকা এক কনেস্টবল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘ চম্পক স্যারের সাথে আমরা ছিলাম, যা করেছেন উনিই করেছেন। উনি ভালো জানেন।’

প্রায় ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে অবৈধ ইয়াবাগুলো পুলিশের এক কথিত সোর্সের মাধ্যমে রাজাপালং এলাকায় এক মাদক কারবারিকে চম্পক বিক্রি করে দিয়েছেন বলে তথ্য মিললেও সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

রহস্যজনকভাবে এই অভিযানের বিপরীতে উখিয়া থানায় কোন মামলা হয়নি। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ এরকম কোন অভিযান আমার নির্দেশনায় হয়নি, যদি অভিযান হতো তাইলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতো। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা চম্পক বড়ুয়া বিয়ে করেছেন উখিয়ার কুতুপালং এলাকা থেকে। শশুড়বাড়ি নিজ কর্মস্থলে হওয়ার সুবাধে তিনি স্থানীয় মাদক কারবারি-অপরাধীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইয়াবা গায়েব ও মাদক কারবারিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে চম্পক বলেন, ‘ এই ওসির আমলে আমি কোন অভিযান করিনি, আপনি খবর নিয়ে দেখতে পারেন। ‘

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে টিটিএন’কে বলেন, ‘ মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। কোন পুলিশ সদস্য যদি ইয়াবাকান্ডে জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘

অতীতেও উখিয়া থানায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের এমন বিতর্কিত ইয়াবাকান্ডে জড়িয়ে পড়ার নজির আছে।

সুত্র টিটিএন নিউজ:


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
Developed By AZAD WEB IT