বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ‘এগ্রো চেইন বাংলাদেশ’-এর প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ: বছরে হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব
বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, সিন্ডিকেট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ভোক্তাদের হাতে পৌঁছাতে অনেকবার মধ্যস্বত্বভোগীর হাত বদল হয়, ফলে মূল্য অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাকে প্রযুক্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে এগ্রো চেইন বাংলাদেশ (Agro Chain Bangladesh)।
বাজারের বর্তমান সংকট দেশের কাঁচাবাজারে সুনির্দিষ্ট কাঠামোর অভাব রয়েছে। কৃষক থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছাতে প্রায় ৪-৫ বার হাতবদল হয়। এর ফলে ১০ টাকার সবজি ঢাকায় পৌঁছলে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া সময়-অসময়ে পণ্য স্টক করে কৃত্রিম সংকট তৈরি, পরিবহন চাঁদাবাজি এবং পচনশীল পণ্যের অপচয়ের কারণে বাজারের নিয়ন্ত্রণ থাকে অসাধু চক্রের হাতে।
‘এগ্রো চেইন বাংলাদেশ’-এর সমাধান প্রতিষ্ঠানটি ‘ফার্ম-টু-টেবিল’ মডেল নিয়ে এসেছে, যা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেয়।
মধ্যস্বত্বভোগী হটিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ, নিজস্ব বা ভেরিফাইড পরিবহনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে পণ্য শহরে আনা, যা চাঁদাবাজি ও পণ্যের অপচয় রোধ করবে, ডাটা ও মনিটরিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বাজারের চাহিদা ও জোগানের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ, যা অবৈধ মজুদদারি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা
প্রান্তিক কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। হোলসেলার ও রিটেইলাররা ভোররাতে আড়তে না গিয়ে সতেজ, ভেজালমুক্ত পণ্য সরাসরি তাদের প্রতিষ্ঠানে পাবেন। এতে সময় ও পরিবহন খরচ বাঁচবে এবং ব্যবসায়িক মুনাফা বাড়বে।
জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ও সাশ্রয় প্রতিদিন দেশের কাঁচাবাজার ও কৃষিপণ্যের লেনদেন প্রায় ৩-৪ হাজার কোটি টাকা। বছরে এই অংক দাঁড়ায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে অদক্ষ সাপ্লাই চেইন ও অপচয়ের কারণে ৩০-৪০ শতাংশ অর্থ সিস্টেম লস হয়। এগ্রো চেইন বাংলাদেশ এই লস কমিয়ে বছরে ২০-৩০ হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সরকারকে সহায়তা
সঠিক তথ্যের অভাবে সরকার প্রায়ই বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায়। এগ্রো চেইন বাংলাদেশ উৎপাদনের সঠিক ডাটা সরকারকে সরবরাহ করবে, যা আমদানি-রপ্তানি নীতি নির্ধারণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
এগ্রো চেইন বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বলেন, আমরা কেবল ব্যবসা করতে আসিনি, আমরা এসেছি একটি দীর্ঘস্থায়ী জাতীয় সমস্যা সমাধান করতে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিপণ্যের বাজারকে স্থিতিশীল করা, যাতে কৃষক তার ঘামের সঠিক দাম পান এবং ভোক্তারা স্বস্তিতে বাজার করতে পারেন। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বছরে হাজার কোটি টাকার অপচয় রোধ করা সম্ভব।
বাজার বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মনে করছেন, এটি দেশের কৃষি খাতকে আধুনিকায়ন এবং ভোক্তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
যোগাযোগ এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য:
প্রতিষ্ঠাতা, এগ্রো চেইন বাংলাদেশ
ইমেইল:info.rkripon@gmail.com
ওয়েবসাইট: https://agrochain.app