সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উখিয়ায় ৪ একর বনভূমি জবরদখলমুক্ত, উচ্ছেদ ৭ স্থাপনা সাবরাং ইউপি নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে নুরুল আলম টেকনাফকে বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা টেকনাফে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র-গুলিসহ ৩ জন আটক টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১৪ লাখ ইয়াবাসহ দুই পাচারকারী আটক উখিয়া-টেকনাফে জেলা পুলিশের বড় সাফল্য: আত্মসমর্পণের ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরছেন শীর্ষ ডাকাত ও মানব পাচারকারীরা দুর্নীতি মামলায় সাময়িক বরখাস্ত বান্দরবান সদর উপজেলার পিআইও টেকনাফে হ্নীলায় জামাল মার্কেটে ভয়াবহ আগুন: ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি মাদক কারবারিদের নতুন তালিকায় বাদ পড়তে দৌড়ঝাঁপ জেলার শীর্ষ মাদক কারবারীদের টেকনাফে শিশু সুরক্ষা নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত: প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপের আশ্বাস

চকরিয়ায় বারুদ মরিচ চাষে বাম্পার ফলন মরিচের ভারে নুইয়ে পড়েছে গাছ, লাখপতি কৃষক: 

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া: / ১১৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ন

চলতি রবিশস্য মৌসুমে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর তীরের চরের জমিতে হাইব্রিড জাতের বারুদ মরিচের বাম্পার ফলন এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে এবছর শুধু নদীর তীরে নন, উপজেলার বিভিন্ন জনপদের উর্বর জমিতে মরিচ চাষ করে রেকর্ড ফলন পেয়েছেন কৃষকেরা।

তুলনামুলক কম খরচ এবং অল্প পরিশ্রমে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলনে বেশিরভাগ কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি অফিসার (হিসাব ও উন্নয়ন) মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি রবিশস্য মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬৫৫ হেক্টর (১৫৩৭ একর) জমিতে হাইব্রিড জাতের মরিচ চাষ করা হয়েছে।

মাতামুহুরীর তীরের জনপদ বিশেষ করে উপজেলার কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, বিএমচর, চিরিঙ্গা, বরইতলী এবং চকরিয়া পৌরসভার চরাঞ্চলে মৌসুমি মরিচ চাষ বেশি হয়েছে। কৃষকেরা জানিয়েছে, হাইব্রিড জাতের মধ্যে বারুদ মরিচে বেশি ফলন এসেছে।

হাইব্রিড জাতের বারুদ মরিচের বীজ বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের মেসার্স শহীদ এগ্রোসীড ফার্মের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড বারুদ মরিচ চাষে উপযুক্ত আবহাওয়া, সঠিক জাত বাছাই এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
এভাবে কৃষকেরা বারুদ মরিচ চাষ করে বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ মণের ওপরে কাঁচা মরিচ উৎপাদন করতে সক্ষম। আমরা কৃষকদের মাঝে সেরা বীজটি পৌঁছে দেয়ার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকি। যাতে আমাদের পন্য ব্যবহার করে কৃষকেরা ভালো ফসল উৎপাদন করতে পারে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, মরিচ চাষে বাম্পার ফলনের জন্য চাষের আগে উন্নত জাত নির্বাচন, মাটি ও জমি তৈরি করা, যেখানে পানি জমে না, এমন উঁচু জমি নির্বাচন করা। চারার বয়স নির্ধারণ করে ২৫-৩০ দিনের সুস্থ চারা রোপণ, সুস্থ ও রোগমুক্ত চারা পেতে ট্রে-তে বা নার্সারি বেডে (কম্পোস্ট মিশ্রিত) চারা উৎপাদন করা।

এছাড়াও জমিতে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করা। একটি চারা থেকে চারার দূরত্ব অন্তত ১২-১৮ ইঞ্চি রাখা ইত্যাদি। জমি তৈরির সময় জৈব সার, ফসফরাস ও পটাশ সার ব্যবহার কী পরিমাণ করা হবে এবং গাছে ফুল ও ফলন ধরার সময় নিয়মিত সুষম সার দিতে হবে সেই বিষয়ে।

তিনি বলেন, একইভাবে জমিতে কী পরিমাণ পানি (সেচ) দিতে হবে, গাছের শক্তি বৃদ্ধির জন্য জমি থেকে আগাছা পরিষ্কার করা। কোন কারণে খেতে রোগ ও পোকা দেখা দিলে তা দমনের জন্য পোকা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা এবং পাতা কোকড়ানো রোগ প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত উপসহকারী কৃষি অফিসাররা পরামর্শ দেন। চাষের ক্ষেত্রে কৃষকেরা এসব পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করার কারণে মরিচ চাষে ভালো ফলন এসেছে।

উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ এলাকার কৃষক মিজবাহ্ উদ্দিন জানান, চলতি রবিশস্য মৌসুমে তিনি বর্গা নেওয়া ৫০ কড়া জমিতে হাইব্রিড জাত বারুদ মরিচের চাষ করেছেন। নভেম্বর মাসে তিনি জমিতে চারা রোপণ করে জমি লাগিয়ত, শ্রমিক মজুরি, সার পানি মিলিয়ে এই পর্যন্ত তাঁর ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি বলেন, চারা রোপণের পর ইতোমধ্যে তিনমাস সময় অতিবাহিত হয়েছে। এখন গাছের থোকায় থোকায় ধরেছে কাঁচা মরিচ। তিনি দাবি করেন, জমিতে যে পরিমাণ মরিচ ধরেছে, তা বিক্রি করে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পাবো।

চিরিঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িপুকুর এলাকার কৃষক মোঃ আমির হোছেন বলেন, বারুদ মরিচের বীজ এবছর প্রথমবার জমিতে চাষ করেছি। এখন দেখছি খেতের প্রতিটি গাছ মরিচের ভারে নুইরে পড়েছে। আমি আশাবাদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খেতের মরিচ বিক্রি করে ভালো দাম পাবো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি রবিশস্য মৌসুমে হাইব্রিড জাতের বারুদ মরিচ চাষে বাম্পার ফলন এসেছে বিএমচর ইউনিয়নের কন্যারকুম এলাকার কৃষক মোঃ মনোয়ার আলমের জমিতে। একই অবস্থা দেখা মিলেছে চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা মৌলভীরচরের কৃষক মোহাম্মদ সেলিমের জমিতে।

বারুদ মরিচ বীজের বাজার প্রসঙ্গে মেসার্স শহীদ এগ্রোসীড ফার্মের চকরিয়া অঞ্চলের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, বর্তমানে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এক কেজি কাঁচা মরিচ খুচরা ৯০ টাকা ও পাইকারী ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জমিতে আশাজাগানিয়া বাম্পার ফলনের কারণে বারুদ মরিচ বীজ এই অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে একযুগের বেশি সময় ধরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, চলতি রবিশস্য মৌসুমে উপজেলার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো বেশি জমিতে মরিচ চাষ করেছেন কৃষকেরা।
তিনি বলেন, চাষের আগে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সরকারি প্রনোদনা কর্মসুচির আওতায় বিনামূল্যে সার দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া এবার আগেভাগে মাতামুহুরী নদীর দুই পয়েন্টের রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। তাতে মরিচ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
Developed By AZAD WEB IT